ঢাকা, ২০ জুলাই: ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন এবং যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে একে একে আমন্ত্রিত নেতারা যমুনায় পৌঁছান। নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর শরিক দলগুলোর প্রায় দেড় শতাধিক শীর্ষ নেতাকে নিয়ে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক যৌথ মতবিনিময় সভা।
মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সুযোগ শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ চিরদিন মনে রাখবে।
সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে এখনো শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে এখন আলোচনা না করলেও চলবে। তবে সব সিদ্ধান্ত পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নৈশভোজে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়েই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।






