ছাতক, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ছয়টি মোটর ও একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোটরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক থানার একটি দল রেলওয়ে কলোনী এলাকার সুরমা নদীর তীরে অভিযান চালায়। অভিযানে রমজান মিয়ার ভাঙারির দোকান থেকে ছয়টি চোরাই মোটর উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ এবং চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তোফাজ্জল হক (২২), পিতা নিজাম উদ্দিন; জুবের মিয়া (২৩), পিতা মৃত আনিছুর রহমান; ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর ছড়ারপাড় গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার পুত্র আবু বক্কর (২২); এবং ছাতক পৌর শহরের বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আমির মিয়ার পুত্র রমজান মিয়া (৪০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস পূর্বপাড়া গ্রামের কাটাগাং নদীর তীরে অবস্থিত বশির কোম্পানির বালুর স্টক থেকে মোটরগুলো চুরি করা হয়। পরে ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চোরাই মোটর বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাতকের রেলওয়ে কলোনী এলাকায় আনা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকার সুরমা ও পিয়াইন নদীর দুই তীরজুড়ে থাকা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্রাশার মিল ও বালুর স্টক থেকে মোটর, কনভেয়ার বেল্ট, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি চোরাই মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছাতক নৌ পুলিশের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের পর আটক চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মালামাল আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





