সুনামগঞ্জ, ১৪ জুলাই: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের চৈলতা ঢালায় ইজারাবিহীন মরা চেলা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তলদেশ ও তীর কেটে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে সরকারি বেড়িবাঁধ, সড়ক, মসজিদ এবং অন্তত ৪০টি পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে চৈলতা ঢালার নদীতীরে শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের অন্ধকারে ড্রেজার ও লিস্টার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০টি বাল্কহেডে করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে নদীর তলদেশ ও পাড় কেটে বালু উত্তোলনের কারণে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে উত্তর রহমতপুর গ্রামের অন্তত ৪০টি পরিবারের বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, সরকারি বেড়িবাঁধ, চলাচলের সড়ক এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধনে কৃষক আলী মিয়া, ইজিল করিম, ব্যবসায়ী আইনুল করিম, শ্রমিক নেতা আতাউর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীর তীর ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহি উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





