লন্ডন, ১৩ জুলাই: প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও দেশীয় সংস্কৃতি ও শিকড়ের টানে একত্রিত হলেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কেয়ারাররা। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ারার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রবিবার স্টেপনি গ্রিন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ভর্তা উৎসব।
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেয়ারারদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজন এবং কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন অনুষ্ঠানে।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং কেয়ারারদের জন্য একটি আন্তরিক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের সভাপতি জাহেদ মিয়া বলেন, “প্রবাসে কেয়ারাররা প্রতিদিন কর্মব্যস্ততা ও নানা দায়িত্বের মধ্যে জীবনযাপন করেন। এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হোক এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকুক।”
উৎসবে আলু, বেগুন, শুঁটকি, ডাল, টমেটো, সরিষাসহ বিভিন্ন উপকরণের প্রায় ৩০টিরও বেশি ভর্তা পরিবেশন করা হয়। দেশীয় স্বাদের এসব খাবার অংশগ্রহণকারীদের মাঝে দেশের স্মৃতি ও গ্রামীণ আবহের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
খাবারের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের নয়, বরং কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা শাহান আহমদ চৌধুরী বলেন, “কেয়ারারদের পেশাগত জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপ থাকে। এ ধরনের আয়োজন তাদের কিছুটা স্বস্তি দেয় এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেশীয় পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মাওলানা মুরাদ বলেন, “প্রবাসে এমন আয়োজন আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। একসঙ্গে এত মানুষের সঙ্গে দেশীয় খাবার উপভোগ করা এবং আন্তরিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কমই আসে। এই উৎসব আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই এ উদ্যোগকে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ইতিবাচক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য এবং বাঙালিয়ানার চর্চা আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে কেয়ারারদের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা সদস্য জগলুল খান, সাবেক সভাপতি নুরুল আলম, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি সফর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক লিটন আহমদ, মুন্না মিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।






