কার্ডিফ, ১২ জুলাই ২০২৬: বৃটেনের ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার এবং ‘ডিভলিউশনের জনক’ হিসেবে পরিচিত রাইট অনারেবল রডরি মর্গানের স্মরণে কার্ডিফ বে এলাকায় তার একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। সেনেড ভবন ও ঐতিহাসিক পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মাঝামাঝি স্থানে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটি এখন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শনিবার দুপুর ১২টায় সাবেক মন্ত্রী জেইন এলিজাবেথ হাটের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, রডরি মর্গানের পরিবার-পরিজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে ওয়েলস পার্লামেন্টের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, সিনেড সদস্য হিউ টমাস, লেবার এমএস শাভ, ল্লুইড হিউ ইরাঙ্কা-ডেভিস এবং কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল বক্তব্য দেন। এছাড়া রডরি মর্গান ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স কাউন্সিলার দিলওয়ার আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রডরি মর্গানের রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। জুলি মর্গান বলেন, ভাস্কর্যটি মাটির কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে, যা তার জনঘনিষ্ঠ ও আড়ম্বরহীন জীবনের প্রতিফলন। মার্ক ড্রেকফোর্ড তাকে “ডিভলিউশনের জনক”-এর স্থায়ী স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার নেতৃত্ব ছাড়া সেনেড আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না। ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, ওয়েলশ ডিভলিউশনের শুরুর অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে তার প্রিয় কুকুর টেলের সঙ্গে সেনেডের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ পোশাকে নির্মিত এই মূর্তি তার সরল ও মানুষের কাছাকাছি থাকা রাজনৈতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট কমিটির ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাহমিনা খান, লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সালসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। তারা রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন শিল্পী অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস, যিনি ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। পাউইসের ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে এটি নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘ আট বছরের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে।
রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৯ সালে ওয়েলস অ্যাসেম্বলির সদস্য হন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। “ক্লিয়ার রেড ওয়াটার” নীতির মাধ্যমে তিনি ওয়েলসের স্বতন্ত্র নীতি ও পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হয়।
আয়োজকদের মতে, এই ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রডরি মর্গানের অবদান স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার গুরুত্ব তুলে ধরবে।






