সিলেট, ১১ জুলাই: হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে টাকা গণনার সময় ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয় মাজারের টাকা। তখন এই চিঠি পাওয়া যায়।
চিঠির প্রেরক মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ লিখেছেন, ‘প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানি না আমার এই চিরকুটটি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি। আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, আমাদের দেশে যতগুলো ধর্ষণ ও খুন হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। বিশেষ করে ধর্ষণ। আমাদের স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছর। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো দৃশ্যমান বিচার দেখতে পারছি? আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় সাধারণ জনগণ বিচারের প্রতি কোনো আস্থা নাই। আমাদের ছোট্ট শিশু রামিসার বিচার কবে কার্যকর হবে। ৩ মাস, ১ বছর, ৫ বছর না ১০ বছর—বলা খুব কঠিন।’
‘বিশেষ করে মাদকের সাথে জড়িত যারা, আমার মনে হয় মাদক ব্যবসা যারা করে তাদের হাত অনেক বড়। না হয় থানা ম্যানেজ করে চলে। গ্রামের প্রায় ৯০% মানুষ মাদক আসক্ত শিশু, তরুণ, কিশোর।’
জুবায়ের তার চিঠিতে ‘রামিসা, আছিয়া, হাদী হত্যাকারীদের পাথর দিয়ে মারার বিচার’ দাবি করেছেন।
শনিবার সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। তবে টাকার সাথে বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশুসহ আরও অনেক কিছু পাওয়া গেছে।
গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।
এছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণ সদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে। একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া সব অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
তিনি বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করব।
এর আগে গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে টাকা গণনার সময় বেশ কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায়। যেখানে কেউ কেউ নামে-বেনামে চিঠি লিখেন। চিঠিগুলোতে কেউ কেউ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া কিংবা অভিযোগ উল্লেখ করেন। তবে এবার একটি ব্যতিক্রমী চিঠি পাওয়া গেল। যেখানে প্রেমিক ও প্রেমিকা তাদের মধ্যে মিল-মহব্বত বৃদ্ধি করতে দরগাহের ডেগে এই চিঠি রেখে যান।
মুন্নি ও আমিনুলের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি চেয়ে ওই চিঠিতে লেখা ছিল, ‘হে আল্লাহ, আমাদের মিল-মহব্বত বৃদ্ধি করে দিন এবং আমাদের মাঝে সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও বোঝাপড়া অটুট রাখুন। আমাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করুন এবং আমাদের জীবনে বরকত দান করুন। মুন্নি আমার বউ। তাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি। মুন্নি ও আমিনুল-এর সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও অটুট রাখার তাওফিক দান করুন। আমাদেরকে সকল শত্রু, অকল্যাণ ও বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন। (আমিনুল + মুন্নি)’







