
সিলেট, ৯ জুলাই: সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইউকে এনআরবি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নগরীর জিন্দাবাজারের মেহমান রেস্টুরেন্টের ভিআইপি হলরুমে সিলেটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ এ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিমানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীসহ সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম জুনেদ আহমদ বলেন, বারবার বন্ধ হয়ে পড়া সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট স্বাভাবিক রাখতে ম্যানচেস্টার ও সিলেটে একযোগে আন্দোলন চালানো হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান সরকার প্রবাসীদের দাবির প্রতি একাত্ম হয়ে এ দাবি মেনে নিয়ে ফের সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি ব্রিটেন প্রবাসীদের সকল যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছে। প্রবাসীরা যাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হন সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক মুকতাবিস উন নূর, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী। এনআরবি সোসাইটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিচালক এম জামাল উদ্দিন ও সদস্য মো. নজরুল ইসলাম।
সাংবাদিক ওয়েছ খসরুর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ হান্নান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ূন কবির লিটনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সিলেটের প্রবাসীরা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু না হওয়ায় বিভিন্ন দেশের উড়োজাহাজ সিলেটে আসছে না। এতে ভাড়া বৈষম্যের পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তিও চরমে রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন বলেন, ব্রিটেনে থাকা তৃতীয় কিংবা চতুর্থ প্রজন্ম দেশমুখী হচ্ছেন না। তারা দেশে এলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকারসহ সকল মহলকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাগত বক্তব্যে ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমান কখনোই অলাভজনক ছিল না। অথচ অলাভজনক রুট দেখিয়ে বিগত অন্তবর্তী সরকার সিলেটবিদ্বেষী একটি মহল বন্ধ করেছিল। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রোববার ও বুধবার ম্যানচেস্টার থেকে দুটি ফ্লাইট সিলেটে এসেছে। চার মাস বন্ধ থাকার পরও দুটি ফ্লাইটে কোনো সিট খালি ছিল না। এতে প্রমাণিত হয়েছে পূর্বে আমরা যে বক্তব্য রেখেছিলাম সেটি সঠিক ছিল। বর্তমান সরকার এ ফ্লাইট চলাচলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






