সুনামগঞ্জ, ৭ জুলাই: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারভুক্ত বিএনপির এক নেতাসহ ১০ জনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (তাহিরপুর জোন) অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ অক্টোবর জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তাহিরপুর থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক। অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে হাজারো মানুষ নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু সংগ্রহ ও পরিবহন করে নিয়ে যায়।
অভিযোগপত্রে তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বার, জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, বোরহান উদ্দিনসহ মোট ২৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় এর আগে রানু মেম্বার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
তবে মামলার এজাহারে নাম থাকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকাব উদ্দিনের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে বাদী মোহাইমিনুল হক বলেন, তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অন্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর জাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহাল ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কোনো ইজারা হয়নি, ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।





