সুরমা টাইমস ডেস্ক: ধর্ষণ বিশ্বের অন্যতম জঘন্য ও নৃশংস অপরাধ। এই অপরাধ দমনে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন আইন ও শাস্তির বিধান রয়েছে। কোথাও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, কোথাও যাবজ্জীবন, আবার কিছু দেশে মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের অপরাধে প্রচলিত শাস্তির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
ভারত: ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) অনুযায়ী ধর্ষণের সাধারণ শাস্তি ন্যূনতম ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, যা যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। ভুক্তভোগীর বয়স, অপরাধের ধরন এবং মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হলে কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।
চীন: ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে অপরাধের ধরনভেদে রাসায়নিক বা শারীরিক খোজাকরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব: দেশটির শরিয়াহভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে জনসমক্ষে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশ: ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন।
পাকিস্তান: ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা বিশেষ পরিস্থিতির ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে আদালত মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারেন।
উত্তর কোরিয়া: আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির রয়েছে।
আফগানিস্তান: আদালতের রায়ের ভিত্তিতে অপরাধীকে গুলি করে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জাপান: সাধারণভাবে ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ডাকাতি বা অন্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে ধর্ষণ সংঘটিত হলে বা ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: শাস্তির ধরন নির্ভর করে মামলাটি অঙ্গরাজ্যের আইন নাকি ফেডারেল আইনের আওতায় বিচার হচ্ছে তার ওপর। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কয়েক বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
ফ্রান্স: সাধারণভাবে ধর্ষণের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে অপরাধের নৃশংসতা এবং ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় শাস্তি ৩০ বছর বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
নরওয়ে: সম্মতি ছাড়া যেকোনো যৌন আচরণকে ধর্ষণের আওতায় আনা হয়। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধীর পুনর্বাসন ও মানসিক সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মিশর ও ইরান: ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইরানে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজিরও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তি নয়, দ্রুত বিচার, কার্যকর তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতাও ধর্ষণ প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ।







