নেপালে আকস্মিক বন্যা চোখের পলকে ভেসে গেল ‘কাপড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী-সন্তান’

নেপালে আকস্মিক বন্যা চোখের পলকে ভেসে গেল ‘কাপড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী-সন্তান’ - Surma Times | Sylhet News

নেপালে আকস্মিক বন্যা ‘চোখের পলকে ভেসে গেল কাপড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী-সন্তান,’ - Surma Times | Sylhet Newsনেপাল-তিব্বত সীমান্তে কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই ধেয়ে এসেছে প্রলয়ংকরী বন্যা। এতে নিজের চোখের সামনে পরিবার হারানোর লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক অভাগা পিতা ও স্বামী। খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ওই ব্যক্তি বলেন, প্রশাসনের লোকজন জানাল, তিব্বত সীমান্তে নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। আমাদের দ্রুত উঁচু স্থানে যেতে হবে। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধেয়ে আসা জলের তোড়ে চোখের পলকে ভেসে গেল আমার স্ত্রী ও ছেলে।

নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের ওই কাপড় ব্যবসায়ী জানান, সেদিন এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত ছিল না। সবাই যার যার দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই প্রশাসনের সতর্কবার্তা আসে। কিন্তু সেই বার্তা পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তারা।

সতর্কবার্তা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। বাঁচার জন্য অনেকে দৌড় দিলেও জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যান ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও তরুণ ছেলে। তাদের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মূলত ভোতে কোশি নদীর উপনদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। রাসুয়া জেলার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং— নেপালের এই তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কয়েক মিটার গভীর কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়ে আছে। চোখের সামনে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও হাজারো মানুষের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। প্রিয়জন হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ওই ব্যবসায়ীর মতো শত শত মানুষ এখন কেবল কাদার স্তূপের দিকে তাকিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article