সিলেট, ৪ জুলাই। জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথরবোঝাই চারটি ট্রাক জব্দ করার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী শ্রীপুর এলাকায়। জব্দ করা ট্রাক থেকে জোরপূর্বক পাথর নামিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
৪৮ বিজিবির আওতাধীন শ্রীপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ক্যাম্পের টহল দল শ্রীপুরের খড়মপুর এলাকা থেকে চারটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পাচারের অভিযোগে ট্রাকগুলো আটক করা হয়। তবে ট্রাকগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পথে গুচ্ছগ্রাম এলাকায় উত্তেজিত শ্রমিকরা বাধা দেন। এ সময় তিনটি ট্রাক থেকে জোরপূর্বক পাথর নামিয়ে রাস্তা ও রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়। চতুর্থ ট্রাকের পাথর ফেলে দেওয়ার চেষ্টাকালে সেটি গুচ্ছগ্রাম সড়কের মুখে পৌঁছালে বিজিবি পুনরায় ট্রাকটি জব্দ করে। পরে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) পলি রানী দেব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
ঘটনার জেরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন। মহাসড়কের শ্রীপুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে পর্যটকবাহী গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা এক ট্রাকশ্রমিককে মারধর করে আহত করেন এবং ঘটনাস্থলে গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে গুচ্ছগ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, উত্তেজিত শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক হিসেবে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। তিনি জানান, শ্রমিকরা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের ওপর অবৈধ পাথর পাচার চক্রের সদস্যরা শাবলসহ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
সুনন্দা রায় বলেন, সরকারি কাজে নাগরিকদের সহযোগিতা ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। যা অবৈধ, তাকে বৈধতা দেওয়ার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই। তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কর্মসূচি থেকেও বিরত থাকতে হবে সবাইকে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, অবরোধ প্রত্যাহারের পর সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জৈন্তাপুরের পাথর কোয়ারি এলাকাগুলোতে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচার দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। এই ঘটনা প্রশাসন ও স্থানীয় পাথরশ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে, যা এই অঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষা ও জীবিকার প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদি টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। মহাসড়ক অবরোধের মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।






