সিলেট-আখাউড়া রেলপথের জীর্ণ অবকাঠামো সংস্কারে ১,৭৯১ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

সিলেট-আখাউড়া রেলপথের জীর্ণ অবকাঠামো সংস্কারে ১,৭৯১ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা - Surma Times | Sylhet News

415228 - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট: সিলেট-আখাউড়া রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। এতে পুরোনো রেলপথের বহু জায়গায় কাঠের ও কংক্রিটের স্লিপার নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে যাত্রীবাহী বা মালবাহী রেল চলাচলে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা যাচ্ছে না, লাইনচ্যুতির আশঙ্কা নিয়ে প্রতিনিয়ত সিলেট-আখাউড়া রুটে চলাচল করছে রেল।

তবে এবার সিলেট-আখাউড়া রেলপথের দীর্ঘদিনের জীর্ণ অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সিলেট-আখাউড়া ও সিলেট-সাটিয়াজুড়ি সেকশনে জরাজীর্ণ লাইনগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো রেল ও স্লিপার পরিবর্তন, ক্ষতিগ্রস্ত ফিটিংস প্রতিস্থাপন এবং ব্যালাস্ট সরবরাহ করা হবে। প্রায় ১,৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো রুটজুড়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে।

মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে মূল অবকাঠামোগত কাজে। এর মধ্যে প্রকল্পের মূল ট্র্যাক-সংক্রান্ত কাজের জন্যই প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বাকি অর্থ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. তানভিরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথকে নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনর্বাসন করা। দীর্ঘ তিন থেকে চার দশক ধরে এই রুটে বড় কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় রেলওয়েকে নিয়মিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। জনবল সংকট এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রেন চলাচলের গতি কমিয়ে আনতে বাধ্য হতেন চালকেরা। এতে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি ভ্রমণের সময়ও বেড়ে যেত।

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে গত কয়েক দশক ধরে বড় কোনো সংস্কার না হওয়ায় যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ও যাত্রীভোগান্তি তৈরি হয়েছিল, এবার তা লাঘব হবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে। স্থায়ী সমাধান মিলবে এই রুটে। ট্রেন দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতির ঝুঁকি কমে আসার পাশাপাশি রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article