বাংলাদেশেও কড়া নাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি
সুরমা টাইমস ডেস্কঃ শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এখনো ব্যাপক অভিযান চলছে। দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে গত বুধবার (২৪ জুন) রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকাজে নানা সংকটের কারণে স্থানীয়রা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজছেন। জীবিত উদ্ধারের সোনালি সময় ৭২ ঘণ্টা প্রায় শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, “প্রতিটি প্রাণ বাঁচানো এখন অলৌকিক ঘটনা। আমরা এই ট্র্যাজেডির কোনো কিছু জনগণের কাছে লুকাব না।” অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪.৭ থেকে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশেও বাড়ছে আতঙ্ক
ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহতা বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা। ভূ-তত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমার টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।
সম্প্রতি সোমবার ভোরে ভারত-বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৬.৭ থেকে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎসস্থল ছিল মণিপুরের কাছে। গত বছর নেপালেও শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশেও।
বুয়েটের গবেষণা অনুসারে, দেশের ৪৩% এলাকা উচ্চ ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১% মধ্যম ঝুঁকিতে (জোন-২) এবং ১৬% নিম্ন ঝুঁকিতে রয়েছে। জোন-১-এ রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক জেলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “ঢাকা একটি টাইম বোমার ওপর রয়েছে। বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার ক্ষয়ক্ষতি সাম্প্রতিককালের সব বিপর্যয়কে ছাড়িয়ে যাবে।”
বিশেষজ্ঞরা জানান, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়টি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নদী অববাহিকার কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও বাংলাদেশকে ‘পরবর্তী বড় ভূমিকম্পের’ ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে।
সরকার ও বিশেষজ্ঞদের উচিত এখনই ভবন নির্মাণ নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করা। ভেনেজুয়েলার ঘটনা আমাদের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা।







