সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেট মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধিত) এর ১৩(৯)(৩)১০-১১-১২-১৩ ধারায় মামলাটি (নং ২৬(০৬)২০২৬) দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা
পুলিশ জানায়, মামলার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইব্রাহিম মোস্তফা মাহী (২০), সানিয়াদ আহমদ (১৯), রেদুয়ান আহমদ রাব্বী (২৪), আশরাফুল আহমদ শাহী (২৫) ও সাকির আহমদ (৩১)-কে এবং বৃহস্পতিবার ফুয়াদ আহমদ (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রধান আসামিরা
মামলায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ হোসেন খান, সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফাহিম আহমদ, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দীপরাজ দাশ দিপায়নসহ মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪০-৪৫ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট নগরীর নবাব রোডের পিডিবি অফিসের সামনে থেকে মদিনা মার্কেটের দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে আয়োজিত এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।
বিক্ষোভকারীরা ব্যানারে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় সিলেট মহানগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।






