সুরমা টাইমস ডেস্কঃ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ঘিরে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ, অর্থ পাচার, জমি দখল, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও ভুয়া ডিগ্রিসহ একের পর এক অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তার গ্রেপ্তার ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আবারও আলোচনায় এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ ১২ জুন বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে সরকার জানালেও দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে বহু মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি আসামি। পাশাপাশি র্যাবের টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় আরেকটি মানবতাবিরোধী মামলাতেও তার নাম রয়েছে।
দুদকের তথ্যে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ, একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করা হয়েছে।
অর্থ পাচারের মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হতেই তিনি দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিশাল জমি, রিসোর্ট এবং অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
তার বিরুদ্ধে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি, সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন বেসরকারি পরিচয়ে পাসপোর্ট নেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও আছে।
১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে ডিএমপি কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি হন বেনজীর আহমেদ। কিন্তু দায়িত্বশীল পদে থাকার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দমননীতি ও সম্পদ-সংশ্লিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ ক্রমে ভয়াবহ আকার নেয়।
এখন মূল প্রশ্ন, দেশে ফিরিয়ে আনার পর এসব অভিযোগের কোনটির বিচার আগে এগোয় এবং কতটা জবাবদিহির মুখোমুখি হন একসময়কার এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা।






