দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর -দেশে ফেরাতে দৌড়ঝাঁপ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর -দেশে ফেরাতে দৌড়ঝাঁপ - Surma Times | Sylhet News

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর -ইন্টারপোল সতর্কতায় গ্রেপ্তার, দেশে ফেরাতে দৌড়ঝাঁপ - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় এই গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইতোমধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১২ জুন দুবাই সিটি পুলিশ তাকে আটক করে এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

সরকারি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করতে হয়। সেই অনুযায়ী ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এআই ক্যামেরায় শনাক্ত, বিমানবন্দরেই শেষ যাত্রা

চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশে যাওয়ার পথে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় ধরা পড়েন বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডে যাওয়ার, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরায় মুখ শনাক্ত হওয়ার পরই বদলে যায় সবকিছু।

সূত্র বলছে, বিমানবন্দরের এআই সিস্টেম তার মুখ স্ক্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডাটাবেজে মিল খুঁজে পায়। সেখানে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল ইউনিট। পরে যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দুদকের মামলা, কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর -ইন্টারপোল সতর্কতায় গ্রেপ্তার, দেশে ফেরাতে দৌড়ঝাঁপ - Surma Times | Sylhet Newsদুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করেই এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

বাকি মামলাগুলোতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন। এছাড়া দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে রয়েছে।

আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে তার ও পরিবারের নামে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলশানের ফ্ল্যাট, বহু ব্যাংক হিসাব, জমি, শেয়ার এবং সঞ্চয়পত্র।

ক্ষমতার শীর্ষ থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে

বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ডিএমপি কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠেন।

তবে একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগেও বারবার সমালোচনায় পড়েন। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে তার নামও আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে।

অবসরের পর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর নতুন করে তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

এখন নজর প্রত্যর্পণে

সরকার জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মামলার অগ্রগতি দেশের আইন ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, একসময় রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির আইনি পরিণতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article