ছাতকে হাসপাতালের জমি দখলের চেষ্টা! চরম উত্তেজনা, স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ

ছাতকে হাসপাতালের জমি দখলের চেষ্টা! চরম উত্তেজনা, স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ - Surma Times | Sylhet News

ছাতকে হাসপাতালের জমি দখলের চেষ্টা! চরম উত্তেজনা, স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ - Surma Times | Sylhet Newsছাতক প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের দানকৃত সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ৬৫ বছর আগে এলাকাবাসীর দান করা জমি পুনরায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে হাসপাতালের সম্পত্তি রক্ষা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৬১ সালে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য এলাকার ১৮ জন দানশীল ব্যক্তি দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ২৭ কেদার ভূমি সরকারের অনুকূলে দান করেন। দলিল নং-৭৯২ ও ৭৯৩-এর মাধ্যমে গোপিকা ভূষণ পুরকায়স্থসহ অন্যরা এই জমি দান করেন। বর্তমানে এই জমির ওপর হাসপাতালের স্থাপনা, সীমানা প্রাচীর, রাস্তা ও নৌকাঘাট রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, দানকৃত জমি যথাযথভাবে হাসপাতালের নামে নামজারি ও রেকর্ডভুক্ত না হওয়ায় কিছু উত্তরাধিকারী ২০১২ সালে জমির অংশ বিক্রি করে দেন। গোপিকা ভূষণ পুরকায়স্থের উত্তরাধিকারীরা কবির আহমদ ও নজির আলীর কাছে কয়েক শতাংশ জমি বিক্রির দলিল করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বিক্রিকৃত জমির কিছু অংশ হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে এবং প্রবেশপথে পড়েছে। ২০১২ সালে এবং ২০২৫ সালের মে মাসে কবির আহমদের লোকজন জমিতে সয়েল টেস্ট ও বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের প্রতিবাদে তা ব্যর্থ হয়।

প্রতিবাদ সভা ও লিখিত অভিযোগের পর সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন সরেজমিন পরিদর্শন করেন। প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৈতক গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি হাজী আব্দুস সোবহান বলেন, “৬০ বছর আগে হাসপাতালের জন্য জমি দান করা হয়েছে। এখন সেই জমি আবার বিক্রি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, “বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেখছেন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের জমি রক্ষায় সোচ্চার হওয়ায় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দানকৃত ২৭ কেদার ভূমি দ্রুত হাসপাতালের নামে রেকর্ডভুক্ত করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় জনস্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article