বিয়ানীবাজারে কী হচ্ছে? ঈদের পর মাত্র তিন দিনে তিন লাশ, আতঙ্কে স্তব্ধ জনপদ

বিয়ানীবাজারে কী হচ্ছে? ঈদের পর মাত্র তিন দিনে তিন লাশ, আতঙ্কে স্তব্ধ জনপদ - Surma Times | Sylhet News
বিয়ানীবাজারে কী হচ্ছে ঈদের পর মাত্র তিন দিনে তিন লাশ আতঙ্কে স্তব্ধ জনপদ
ছবিঃ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ঈদুল আযহার আনন্দ এখনো শেষ হতে না হতেই নেমে এসেছে মৃত্যুর ভয়াল ছায়া। গত তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। একসময় প্রবাসীদের শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত বিয়ানীবাজার এখন রহস্যময় মৃত্যুর আলোচনায় উত্তাল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের পরদিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দু-তিন দিনের মধ্যে এক তরুণী, এক যুবক এবং এক সিএনজি অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে দুটি ঘটনা। এক যুবককে নিজ ঘরে হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সিএনজি চালকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায়।

স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনায় এমনভাবে হাত বা পা বেঁধে রাখা খুবই অস্বাভাবিক। তাই অনেকেই সন্দেহ করছেন, এগুলো কি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।

পুলিশ অবশ্য এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি। তারা জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিয়ানীবাজারের প্রবীণরা বলছেন, এমন ধারাবাহিক অস্বাভাবিক মৃত্যু আগে খুব কমই দেখা গেছে। বিশেষ করে ঈদের মতো আনন্দের সময় এ ধরনের ঘটনা মানুষের মনে গভীর শোক ও ভয়ের সঞ্চার করেছে।

সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা, পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তি, সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক চাপ এসব ঘটনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব তরুণদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

সচেতন মহলের দাবি, শুধু পুলিশি তদন্ত নয়, এসব মৃত্যুর সামাজিক কারণগুলোও বের করতে হবে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ানো, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিয়ানীবাজারবাসী এখন একটাই প্রশ্ন করছেন- আর কত প্রাণ ঝরলে এই রহস্যের সমাধান মিলবে? প্রশাসন ও পুলিশের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article