সিলেটের হরিপুর চোরাচালানের রাজ্য গুঁড়িয়ে দিল সেনাবাহিনী, অজানা আতংকে কারবারিরা

সুরমা টাইমস রিপোর্ট : সিলেটের হরিপুর চোরাচালানের রাজ্য গুঁড়িয়ে দিল সেনাবাহিনী, অজানা আতংকে দিন  যাপন করছেন চোরাকারবারিরা। সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুরসহ এই এলাকার কয়েকটি গ্রামের  মানুষ চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। ফলে হরিপুরে গড়ে উঠে  চোরাচালান বানিজ্যের মূল আস্তানা।  আর এ চোরাকারবারের অলিখিত নিয়ন্ত্রক মাফিয়া ডন নামে পরিচিত  জৈন্তাপুর  উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান, ওরফে বুঙ্গাড়ি রশিদ। যিনি আওয়ামী সরকারের কয়েকজন নেতার সাথে সিন্ডিকেট করে দাপট খাঁটিয়ে আদিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেনা অভিযানে রশিদ চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় অজানা আতংকে আছেন এ এলাকার চোরাকারবারিরা।

গত২৭ মার্চ রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে।  ঘটনার পর থেকে সেনা সদস্যদের নিয়মিত তদারকি রয়েছে হরিপুরে।

এদিকে গত ৩০শে মার্চ হরিপুর বাজারের সরকারি ইজারাকৃত বাজারের নির্ধারিত সীমানার বাহিরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ভারতীয় পশুর হাঁট উচ্ছেদের পর ঈদের দ্বিতীয় দিন তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বাজার অংশে দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন উপজেলা প্রশাসনও।

এরই পরিপেক্ষিতে গত ১লা এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে সেনাবাহিনীর ২৭ বীর ইউনিট দুপুরে মাইকিং করে হরিপুর বাজারে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্হাপনা সমুহ বিকেল ৪ টার মধ্যে সরানো নির্দেশনা প্রদান করে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করার পরপরই স্হানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান পাট থেকে পন্য সামগ্রি সরানোর কাজ শুরু করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হরিপুর বাজারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি জমিতে গড়ে উঠা দোকানপাঠ হতে ব্যবসায়ীরা সকল ধরনের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। এ সময় হরিপুর ব্রীজ থেকে মুল মহাসড়ক হয়ে তাড়ুহাঁটি ভাতের হোটেল এলাকা পর্যন্ত মালামাল সরানোর কর্মব্যাস্ততা লক্ষ্য করা যায়।

 

জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে চোরাই পথে পশু, বিভিন্ন রকম পণ্য ও মাদকদ্রব্য কেনাবেচার সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন হরিপুর এলাকার অনেক মানুষ। সীমান্ত দিয়ে এসব প্রথম আসে হরিপুরে। ওখান থেকে গাড়িযোগে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এ কারণে হরিপুরকে বলা হয় চোরাচালান সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার। হরিপুর চোরাচালান আগেও ছিলো এখনো আছে। বর্তমানে সিলেট সীমান্তে চোরাচালান অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বানের পানির মতো নামতে থাকে চিনি। শুরুতে চিনি চোরাচালান নিয়ে পুলিশের কড়াকড়ি নজর ছিল। স্থানীয় ছিচকে চোরাকারবারির সঙ্গে যোগসাজশে এটি মূলত রাজধানীতে সাপ্লাই হতো। ওই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী চিনি চোরাচালানে যুক্ত ট্রাকগুলো আওয়ামী নেতা সিন্ডিকেটকে চাঁদা না দিয়ে শাহপরান বাইপাস বা টিলাগড় পাড় হতে পারতো না। অবশ্য পরবর্তীতে তামাবিল-সিলেট তথা ঢাকা পর্যন্ত রুটে প্রভাবশালী চিনি চোরাচালান বৃহত্তর সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এক রাতে হরিপুর থেকে শ শ ট্রাকে করে শত কোটি টাকা পর্যন্ত চিনি চোরাচালান হতো। তার সঙ্গে ছিল মহিষ ও গরু চোরাচালান, শাড়ি, প্রসাধনীসহ নানা ধরনের পণ্য। হরিপুরের স্থানীয় সিন্ডিকেট চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক। আওয়ামী লীগ শাসনামলেও হরিপুরের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ ও বোঙারী প্রধান আবুল হোসেন সিন্ডিকেট । গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের অর্ধশতাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে স্রোতের মতো আসা চোরাই পণ্যের গুদামজাত হয় হরিপুরে। সেখান থেকে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৩শ’ ট্রাক ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রওয়ানা দিতো। ওপেন সিক্রেট এই চোরাচালানে শেল্টার ছিল পুলিশেরও।

 

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে চোরাচালানের গডফাদার আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যানের বাড়ি হানা দেয়। এ সময় তারা ঘর তল্লাশি করলেও রশিদ চেয়ারম্যানের খোঁজ না পেলেও সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।