সিলেট, ২ নভেম্বর: সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার হাতে চাচা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঘটনার সাত দিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-৯ ও এসআরবি-৭ এর যৌথ অভিযানে এই সফলতা এসেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ সদর কোম্পানি সিলেট এবং এসআরবি-৭ সদর কোম্পানি চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে এবং পরে রাত ৮টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মির্জা টিটু (৩৫) ও মির্জা জেনি (৩৮)। দুজনের বাবার নাম মৃত মির্জা ফরিদ। তৃতীয়জন সালমা বেগম (২৫), স্বামী মির্জা টিটু। সবার বাড়ি পূর্ব মুসলিমাবাদ, বালাগঞ্জ থানা, সিলেট জেলা। এরা মামলার এজাহারনামীয় ১, ২ ও ৫ নম্বর পলাতক আসামি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী মির্জা আব্দুল লতিফ @ আবুল (৬৫) সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানাধীন পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্তরা তার বংশীয় ও নিকটাত্মীয় এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ও তাঁর ভাই মির্জা আব্দুল কাদির যৌথভাবে অভিযুক্তদের কাছে ১২ লাখ টাকা মূল্যে বসতবাড়ির জায়গা ক্রয়ের জন্য টাকা প্রদান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে দেননি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ফেরত দেননি। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের কাছে তাদের পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ভুক্তভোগী গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১ নম্বর অভিযুক্ত মির্জা টিটুর হুকুমে অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে ঘেরাও করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন তিনি।
এ সময় ভুক্তভোগীকে বাঁচানোর জন্য তার ছেলে মির্জা জাহাঙ্গীর ও ভাই মির্জা আব্দুল কাদির এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদেরকেও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মির্জা আব্দুল লতিফ @ আবুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ভাই মির্জা আব্দুল কাদিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ঘণ্টাটি সারাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বালাগঞ্জ থানার নম্বর ০৯, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬। মামলায় ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/১১৪/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত বাহিনী। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমন, সংঘবদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, মানবপাচার ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তারা কাজ করে থাকে।
জমি বা টাকা নিয়ে আত্মীয়দের মধ্যে বিরোধের ঘটনা দেশে কম নয়। অনেক সময় তা সহিংসতায় গড়ায়। বালাগঞ্জের এই ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই নির্মম উদাহরণ। সাত দিনের মধ্যে প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেফতার তদন্তে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।






