ঢাকা, ২ নভেম্বর: পৃথক অভিযানে সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
রোববার (১ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের একজন যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
পরে ওই যাত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি সোনার ‘ডিম’ উদ্ধার করা হয়।
অপর অভিযানে বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও তিনটি স্বর্ণের ‘ডিম’ জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এগুলোর ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্বর্ণের ‘ডিম’গুলো আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো পুনরায় আবুধাবিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, সোনার ‘ডিম’ তৈরির এই কৌশল বাংলাদেশে চোরাচালানের পুরোনো একটি পদ্ধতি। গলিয়ে বিশেষ আকৃতিতে ঢালা হয় বলে সহজে শনাক্ত করা যায় না। বিমানবন্দরে স্ক্যানিং এড়াতে নানা ফাঁকি ব্যবহার করা হয়। তবে শুল্ক গোয়েন্দাদের নজরও এখন অনেক বেশি সজাগ। কারণ সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে চোরাচালানের ঝুঁকিও বেড়েছে।
নতুন করে জব্দ হওয়া ছয়টি ‘ডিম’ তারই প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে চক্রের কতটা বিস্তার বেরিয়ে আসে। সেইসঙ্গে কেন দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি,国外的 যোগসূত্রই বা কারা, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংস্থা।






