সিলেট প্রতিনিধি: তরুণদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শনিবার (২৯ আগস্ট) সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইউথ কনফ্লুয়েন্স ২০২৬’। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাফিজ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলে। অনুষ্ঠানের স্থান ছিল সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেটের ড. রাগিব আলী মিলনায়তন, যা সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব নামেও পরিচিত।
‘জ্ঞান, অর্জন, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সংস্কৃতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি দুইটি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন। এ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফিজ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা ইনাম বিন সিদ্দিক, মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, উৎফল বড়ুয়া, জনাব প্রশান্ত লিটন এবং মশিউর রহমান চৌধুরী।
দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আলী আকবর। এ পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা সাদিক সালিম, মুয়াজ্জেম বখত জেম এবং ডা. আব্দুল্লাহ আল জাবেদ খান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হাফিজ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা ছালিম আহমদ খান। হাফিজ তাইয়িব হাসান রুতবা ও হাফিজ হাম্মাদ বীন আনিছ সরকারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহসানুল হক রাতুল।
বক্তারা অনুষ্ঠানে বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রযুক্তি, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা। এতে অংশ নেন মাহফুজুর রহমান মারুফ, মুশাহিদ আল বাহার, আলী হায়দার সিদ্দিকী, মোসাদ্দেক হোসাইন, আবিদুর রহমান খান, মনিরুল সাকিব, কামরুল ইসলাম নাঈম, নুরুল মুত্তাকিন এবং আহমদ নাঈমসহ শিল্পীরা। শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মন কেড়ে নেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ, দক্ষতা অর্জন এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও তরুণদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
নগরীর একটি বহুল পরিচিত স্থানে এই দিনব্যাপী আয়োজন সিলেটের তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি উপস্থাপনা হিসেবে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।






