পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত - Surma Times | Sylhet News

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত - Surma Times | Sylhet Newsঢাকা, ২২ আগস্ট: মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়া এবং দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে থাকছেন। যা এর আগে দেশে হয়নি। তবে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কারণে প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরকার গঠনের ছয় মাস পার হওয়ার পর শুক্রবার মন্ত্রিসভায় প্রথম দফার রদবদল করা হয়। এখানে দপ্তর বদলের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আব্দুল মঈন খান, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু এবং আন্দালিব রহমান পার্থ। মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির এবং শামীম কায়সার।

শপথের পর রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করা হয়।

গেজেট অনুযায়ী, ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; সাচিং প্রু জেরিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আন্দালিব রহমানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। আর আফরোজা খানমকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্বে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। হুমায়ুন কবির সংসদ সদস্য নন। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

এদিকে, বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের সময় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত - Surma Times | Sylhet News
শামা ওবায়েদ ও হুমায়ুন কবির।

সেক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন একজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়ায় দুইজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনিও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

এক মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে এটা বাংলাদেশে ঘটনা বিরল। এক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী দেখা গেছে কিন্তু দুইজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেখা যায়নি।

যদিও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, এক মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে তো অসুবিধা নেই।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকাণ্ডেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের হয়ে কাজ করেছেন তিনি।

তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণও রয়েছে। মন্ত্রীর অবর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক ফরিদ উদ্দিন রনি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি ফেসবুকের নিজের আইডি থেকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অলরেডি একজন প্রতিমন্ত্রী আছেন বাট এরপরও কেন আরেকজনকে ইনক্লুড করা হলো। প্লাস যাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে, তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা আগেই ছিলেন, সরকারের এ কৌশল অনেকে বুঝে ওঠতে পারতেছেন না। বিষয়টি ক্লিয়ার করি।

আপনারা হয়ত এটা জানেন, কয়েক মাস আগে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড় করায় সরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তিনি নির্বাচিতও হন।

ভোটিংয়ের আগে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জুগাতে জাতিসংঘে একটা ইভেন্ট আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ, সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হন খলিলুর রহমান।

সেখানে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি একটা ইম্পর্ট্যান্ট ক্রুয়েশ্চন করলে যার উত্তরের মাধ্যমে একজন প্রতিমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকজনকে আজ প্রতিমন্ত্রী করার কৌশল বুঝা যাবে।

খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি যদি নির্বাচিত হন তবে বাংলাদেশের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কিনা? না হয় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন!

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডিপ্লোমেটিক আন্সার দিয়েছিলেন, পদত্যাগ করব না। আমার প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ দায়িত্ব পূর্ণকালীন পালন করার জন্য আমাকে ১ বছর ছুটি দেবেন।

আগামী মাস থেকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু। সেখানে ব্যস্ত সময় পার করবেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের উচ্চপর্যায়ের এই সাধারণ বিতর্ক পরিচালনা করা থেকে বৈঠক ও আলোচনা সমন্বয় করার, মূল দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটিতে চলে যাবেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে এই গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করার জন্য।

তার অবর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সবকিছু হ্যান্ডেল করার জন্যই হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন থাকতে পারে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারতেনই, তাহলে প্রতিমন্ত্রী করা হলো কেন!

একটা রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটা রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক/ডিল হয়ে থাকে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে।

আরেকটি বিষয়, রাষ্ট্রীয় সফরে সরকারের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীরা যে ধরনের প্রটোকল পান, সমঝোতা/চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তা উপদেষ্টা করতে পারেন না। গুরুত্বও সমভাবে থাকে না।

এই কারণে সরকার খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘে ছুটিতে পাঠানোর আগে স্ট্রেটেজির অংশ হিসেবে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে দিল।

গত ৬ মাসে খলিলুর রহমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবার ফলে হুমায়ূন কবিরের সকল বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গেছে। তারেক রহমানের যেই ফরেন পলিসি, সেই অনুযায়ী মিনিস্ট্রি সামলাতে তার অসুবিধা হবে না।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article