শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা - Surma Times | Sylhet News

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১৫ আগস্ট: সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনা শেষে দানবাক্স ও দানের ডেগে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে স্বর্ণ, রুপা ও ১৯ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

গণনা শেষে শনিবার বিকেলে এসব তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, নগদ টাকার পাশাপাশি মাজারের দানবাক্সে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে।

পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১ দশমিক ১১ পাউন্ড, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১ হাজার ওমানি বায়সা, ৬৪ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১ হাজার ভিয়েতনামি ডং, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিসরীয় পাউন্ড, শূন্য দশমিক ৪০ ইউরো, ১ বাহরাইনি পয়সা এবং ১ কানাডিয়ান ডলার।

এ ছাড়া নজরানা হিসেবে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পাওয়া গেছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাকা গণনা শুরু হয়। অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী গণনার কাজে অংশ নেন।

এবার এক মাস চার দিন পর মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। তৃতীয় দফায় দানের অর্থ গণনার সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই একটি নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সেই নীতিমালার আলোকে দানের টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।

এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগের দুই দফার হিসাব

চলতি বছরের ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে সরকার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় সেগুলো খুলে গণনা করা হয়। তখন নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হলে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। ওই সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।

তৃতীয় দফার গণনায় আগের দুইবারের তুলনায় বেশি নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রস্তাবিত নীতিমালা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে গণনা ও হিসাব সংরক্ষণে আরও নির্দিষ্ট পদ্ধতি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article