সিলেট, ৬ আগস্ট: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে ‘কামরুল ইসলাম’ হত্যা মামলার চারজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আব্দুর ছোবহান (৫৪), বদরুল ইসলাম (৩৪), আজাদুর রহমান (৩২) ও ময়নুল ইসলাম (৪০)। তাদের সবাই লেঙ্গুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম কামরুল ইসলাম সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন লেঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বিবাদীরাও একই এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম ও ০১নং বিবাদী বিলাল উদ্দিন যৌথভাবে বালু ও বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করে আসছিলেন। আনুমানিক ৬/৭ মাস পূর্বে ব্যবসায়িক বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ০১নং বিবাদী বিলাল উদ্দিনসহ তার সহযোগীরা ভিকটিমকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে উক্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ০১নং বিবাদী প্রায়ই ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করত।
এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ২২ জুন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ভিকটিম গোয়াইন নদীতে ইজারাকৃত লেঙ্গুড়া বালুমহালে ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার পথে লেঙ্গুড়া কবরস্থানে পৌঁছামাত্র ০১নং বিবাদী তার পথরোধ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ভিকটিম এতে অস্বীকৃতি জানালে ০১নং বিবাদীর ডাকে অন্যান্য বিবাদীরা ঘটনাস্থলে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অতঃপর বিবাদীরা ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের সময় ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল অদ্য ৫ আগস্ট রাত ৩টা ১০ মিনিটের সময় এসএমপি, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং-২৬, তারিখ-২৩/০৬/২০২৬, ধারা-১৪৩/৩৪১/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০-এর মূলে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে ‘কামরুল ইসলাম’ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০৩, ০৪, ০৫ ও ০৭নং পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





