হবিগঞ্জের মাধবপুরে কিশোরী অপহরণের মামলার প্রধান আসামি আরাফাত ইসলাম শুভ ওরফে রমজান মিয়া (২০) সিলেট থেকে গ্রেফতার হয়েছে। র্যাব-৯-এর অভিযানে সিলেট নগরের মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং একই সঙ্গে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ভিকটিম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন তেলিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আরাফাত ইসলাম ও ফারুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করত। আরাফাত ইসলাম ভিকটিমকে একা পেয়ে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাবসহ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুপ্রস্তাব দিত বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার জানতে পেরে তার বাবা উভয় পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। তখন দুই পরিবারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ভিকটিমকে আর বিরক্ত বা হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে ওই আশ্বাসের পরও ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও হয়রানি করা অব্যাহত থাকে। এ ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ভিকটিম বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বের হলে শাহাজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন জজ মিয়ার মার্কেটের সামনে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বিবাদীরা অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের বাবা মাধবপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিএসসি, সিলেটের একটি যৌথ আভিযানিক দল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে মাধবপুর থানার মামলা নং-২৮, তারিখ-২৫/০৫/২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩-এর ৭/৩০ ধারার মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি আরাফাত ইসলাম শুভ ওরফে রমজান মিয়া গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের পর উদ্ধার হওয়া ভিকটিমকেও সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।





