নিউইয়র্ক, ২৮ জুলাই: ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিউইয়র্ক শহরের সানাই কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ-জাতি গঠনে সম্প্রীতির আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও ঘৃণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বরং ইসলাম মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই উগ্রবাদ ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, “ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ঘৃণা, সহিংসতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা ইসলামের শান্তি, দয়া ও মানবকল্যাণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।” তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিকতা, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেবিবিএর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস আহমেদ। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ বলেন, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ কোরবান আলী, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উগ্রবাদ, ঘৃণা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানের শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।





