সিলেট, ১ আগস্ট। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের (২৬) ২৩ দিনেও কোনো খোঁজ মেলেনি। গত ৮ জুলাই তিনি ওসমানী বিমানবন্দর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন, এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জেলিনের সন্ধান ও দ্রুত জীবিত উদ্ধারের দাবিতে শনিবার সিলেট নগরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ জেলিনের মামা আবুল কালাম আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৮ জুলাই বিকেল আনুমানিক পৌনে ৪টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টারে অবস্থানকালে মো. আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি বলে পরিবার জানায়।
নিখোঁজ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, গড়ন মাঝারি এবং ওজন আনুমানিক ৭০ কেজি বলে পরিবার জানিয়েছে।
পরিবার আরও জানায়, তারা সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ড ওরফে পিয়াস এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর ৪২৭।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ আরিফুল্লাহ জেলিনের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের সন্ধান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তাঁর মা ফরিদা ইয়াসমীন অথবা মামা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ জন্য দুটি মুঠোফোন নম্বরও গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতো দায়িত্বশীল পদে কর্মরত একজনের দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ না মেলা এবং কর্মস্থলের ভেতর থেকেই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জোরালো হচ্ছে।





