সিলেট, ৩১ জুলাই। সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (এসপিএস) আয়োজিত তৃতীয় জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাটস্থ সারদা হলে গত ৩০ ও ৩১ জুলাই এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আলোকচিত্রীদের পাঠানো সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, জীবনধারা ও সমসাময়িক নানা বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য আলোকচিত্রের মধ্য থেকে বিচারকদের নির্বাচিত ছবিগুলো প্রদর্শনীতে স্থান পায়। দুই দিনের এই আয়োজনজুড়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি আলোকচিত্র শুধু একটি মুহূর্তকে ধারণ করে না, এটি একটি সময়, একটি সমাজ এবং একটি ইতিহাসের নীরব দলিল হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, ফটোগ্রাফি মানুষের চিন্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির এই আয়োজন দেশের আলোকচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসপিএসের সভাপতি আ ন ম জিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস)-এর সভাপতি ইউছুফ তুষার। স্বাগত বক্তব্য দেন এসপিএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়েল আহমদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসপিএসের উপদেষ্টা আতাউর রহমান আতা ও আব্দুল মোনায়েম, সাধারণ সম্পাদক এখলাছ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রিমন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আকাশ চৌধুরী এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসপিএসের সহ-সভাপতি মো. রায়হান চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক মো. খালেদ আহমদ, প্রচার সম্পাদক সালেহ আহমদ, প্রদর্শনী সম্পাদক কার্তিক পাল এবং নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল কাদির শাফি, মিঠু ছেত্রী ও ম্যাক সুমন। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য শুকান্ত তালুকদার, মিলন রায়, ধ্রুব দাস, অসমিত অভি, পুলক সিল, দিথী তৃণা, সুজন পালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড পুরস্কার অর্জন করেন সৌরভ দাস। ফখরুল ইসলাম মেমোরিয়াল পুরস্কার লাভ করেন অমিত আইচ। প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন মো. রাশেদ কবির, দ্বিতীয় পুরস্কার পান ডা. মো. আশফাক হোসেন এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করেন আয়মান নাকিব।
সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির এই আয়োজন স্থানীয় আলোকচিত্রশিল্পের চর্চাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ফটোগ্রাফারদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার পাশাপাশি এই আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।






