হবিগঞ্জ, ২৯ জুলাই: ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে হামলার ঘটনার পর কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবিগঞ্জের পথে রওনা হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বুধবার একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে অন্তত তিন জায়গায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। পরে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পৌঁছালে আবারও পুলিশ গাড়িবহর আটকে দেয়, আর সেখানেই রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানান এনসিপির শীর্ষ নেতারা।
বিকেল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা। পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। প্রায় আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাকবিতণ্ডার পর তারা আবারও হবিগঞ্জের পথে রওনা হন।
এরপর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে আবারও পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বাহুবলের মুছাই নামক এলাকায় এই বাধার মুখে পড়ে এনসিপির নেতারা রাস্তায় বসে পড়েন। সেখানে তুমুল বৃষ্টি শুরু হলেও নেতাকর্মীদের বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বাহুবলে আটকে পড়ার পর এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “রাস্তার মাঝখানে ট্রাক, ট্রাক্টর, পুলিশ বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের হবিগঞ্জে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” পরে দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও পুলিশের বাধার কারণে তাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পর জেলা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এ অবস্থাতেই বুধবার আবারও হবিগঞ্জমুখী হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪৪ ধারা জারির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নেতাদের বক্তব্যে জানা যায়, কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রীমঙ্গল থেকে বাহুবল পর্যন্ত পথে পথে পুলিশি ব্যারিকেড ও বাধার ভিডিওও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।





