সিলেট, ২৮ জুলাই: সিলেট মহানগরীর বাগবাড়ি এলাকায় এক পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে বসতঘরের মেঝে থেকে লাশটি উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। একই দিনে মৌলভীবাজারের রাজনগরে হাওরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় আরেক সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাগবাড়িতে নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মনোজ কান্তি দাস (৫৫)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার ২৫৯ নম্বর বাসায় শশুর-শাশুড়ি ও ছেলে-মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিচতলায় তার শশুর-শাশুড়ি ও ছেলে-মেয়েরা থাকেন, আর দ্বিতীয় তলায় থাকতেন মনোজ।
পুলিশ জানায়, সোমবার প্রতিদিনের মতো ডিউটি শেষে মনোজ রাতে বাসায় ফেরেন। শশুর-শাশুড়ি ও ছেলে-মেয়ের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করে তিনি নিজের ঘরে যান। পরদিন মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো নড়াচড়া না পেয়ে রাতে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তি দাসের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ আরও জানায়, মনোজ কান্তি দাস দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তিনি সম্প্রতি মৌলভীবাজারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটি বা পিআরএল-এ যাওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত বছর তাঁর স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে মনোজ কান্তি দাস ছেলে-মেয়েসহ কোতোয়ালী থানাধীন বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার ওই বাসায় শশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করতেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মহানগরীর বাগবাড়ি এলাকা থেকে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় তার শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তারপরও লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের রাজনগরে হাওরের পানিতে মো. জমসেদ মিয়া (৭৫) নামে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার হাওরে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরে রাত ১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। বুধবার বিকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মরদেহ দাফন করা হয়।
ঘটনাটি উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওরে ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের তুলাপুর গ্রামের জমসেদ মিয়া গরুর জন্য ঘাস কাটতে কাউয়াদীঘি হাওরে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি পানিতে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরপর রাজনগর ফায়ার সার্ভিস সেন্টারে খবর দিলে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তল্লাশি চালায়, তবে কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সিলেটের ডুবুরি ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা রাতেই রাজনগর স্টেশনে পৌঁছায়। এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দীন ভূইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন স্থানীয় জনগণের সহায়তায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালান। পরে গভীর রাতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে বুধবার নিহতের লাশ দাফন করা হয়েছে।






