সিলেট, ২৫ জুলাই: গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা শাখার সংগঠক এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি প্রয়াত সুরুজ আলীর সহধর্মিনী সাজেদা বেগমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৫টায় তাঁর বাসভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা আহবায়ক মিনারা বেগম এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম-আহবায়ক তানিয়া আজাদ। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল ফজল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা যুগ্ম আহবায়ক পারভীনা আক্তার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলার যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং মীরের চক শ্রমজীবী সংঘের অন্যতম নেতা মো. দুলাল মিয়া।
আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত সাজেদা বেগমের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বক্তারা বলেন, সাজেদা বেগম এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সহযোদ্ধা ছিলেন। সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ছিল বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, সাজেদা বেগম পরিবারসহ শোষণমুক্তির সংগঠন-সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাদের ভাষায়, নয়া উপনিবেশিক আধা-সামন্ততান্ত্রিক বাংলাদেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শ্রমিক, কৃষক ও জনগণ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা-দালাল পুঁজির শোষণ-লুণ্ঠন এবং স্বৈরাচারী শাসনে জর্জরিত। একই সঙ্গে সমাজের নারীরা পুরুষশাসিত সমাজে সমঅধিকার ও সমমর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের সৃষ্ট চলমান সমস্যা-সংকট মোকাবেলায় শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে আপোসহীন ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সাজেদা বেগম আজীবন সে লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত সকল সরকারের মতো বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, নারী পাচার, খুন, সাইবার বুলিং ও ইভটিজিং কমার বদলে বেড়েই চলেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তারা আরও বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক গোষ্ঠী এবং এনজিওরা নারী ও পুরুষের বিভক্তি বাড়িয়ে জনগণের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাঙালী জাতীয়তাবাদের ফাঁদে ফেলে জনগণকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করা হচ্ছে বলেও সভায় মন্তব্য করা হয়।
সভা থেকে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।






