সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার ফাহিমা হত্যা মামলার আসামি জাকির

সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার ফাহিমা হত্যা মামলার আসামি জাকির - Surma Times | Sylhet News

সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার ফাহিমা হত্যা মামলার আসামি জাকির - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, বৃহস্পতিবার: সিলেটে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালতে নেওয়ার সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তাকে মারধর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান এবং পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।

এর আগে গত ২৩ জুনও একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধরের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায় বিচার নিয়ে আমরা শংকিত।

বারবার আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশী পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা নেওয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটলো আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেন (৩০) গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে প্রধান আসামি হিসেবে জাকির হোসেন এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে ভোররাতে তার লাশ নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। লাশ ভেসে উঠলে তা তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব দিকে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় গণমাধ্যমের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করেছে।

এর আগে ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। পরে তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে আসামি। ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরে সুযোগ বুঝে সরিয়ে ফেলা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করে তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডে সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।

আদালত প্রাঙ্গণে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article