সিলেটে লাইসেন্সবিহীন ১৪ হাসপাতাল-ক্লিনিক, সেফওয়ে সিলগালা

সিলেটের ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতাল সিলগালা - Surma Times | Sylhet News

সিলেটের ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতাল সিলগালা - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, সোমবার: সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতাল সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন এ পদক্ষেপ নেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরে ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতালসহ অন্তত ১৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্স ছাড়া বা লাইসেন্স নবায়ন না করেই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে। ১৯৮২ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল প্র্যাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-এর ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রশাসনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মির্জাজাঙ্গালের সেফওয়ে হাসপাতাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। রয়েল শিশু হাসপাতাল ও নিরাময় পলি ক্লিনিক ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এবং আল-আমিন জেনারেল হাসপাতাল ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে কোনো নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া চৌহাট্টার সেন্ট্রাল হাসপাতাল, সুবহানীঘাটের মডার্ন জেনারেল হাসপাতাল এবং আরোগ্যা পলি ক্লিনিক ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে খেলাপির তালিকায় রয়েছে। মিরের ময়দানের ফেয়ার হেলথ হাসপাতাল, সুরমা ভ্যালী হাসপাতাল ও মেট্রো মেডিকেয়ার ক্লিনিক ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। ডেল্টা স্পেশালাইজড ও কেয়ার হাসপাতাল ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে শিবগঞ্জের সিলেট ফেক্টো সেন্টার এবং টুকের বাজারের সিলেট মডেল চক্ষু হাসপাতাল ও ফেকো সেন্টার, যেগুলো কোনো ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইসেন্সবিহীন বা নবায়নবিহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে রোগীদের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এবং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম বন্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিন বলেন, ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতালকে সিলগালা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে নগরের বেসরকারি চিকিৎসা খাতে জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article