সিলেট, ২০ জুলাই: দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে থাকা তাদের সম্পদ, জায়গা-জমি ও বিনিয়োগের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার নগরীর গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে হেল্প ফাউন্ডেশন ও সুরমা লায়ন্সের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশের গর্বিত প্রতিনিধি। তারা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নেও তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশে নির্বিঘ্ন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।
সংবর্ধিত অতিথি কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি একজন আলোকিত, মানবিক ও সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং প্রবাসে বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের একজন বেসরকারি রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও যারা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান, সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করবে।
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত সিলেট নগরীতে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নালা পুনরুদ্ধার, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। এসব পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে তিনি নগরবাসী, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হেল্প ফাউন্ডেশন সিলেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রয়াস। কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজের দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুরমা লায়ন্সের ডিরেক্টর নাজনিন হোসেন, হার্ট ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জামিল চৌধুরী, কিডনি ফাউন্ডেশনের ডা. মোস্তফা শাহ জামান বাহার, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রুবানা হক, সিলেট চেম্বারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ফালা উদ্দীন আলী আহমদ, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মইন উদ্দিন মঞ্জু এবং লায়ন মুকিত।
বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজ শুধু একজন সফল প্রবাসী নন, তিনি মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন সমাজসেবক। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা প্রদান এবং প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি প্রবাস ও দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং সামাজিক উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজ সংবর্ধনার জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের জন্য কাজ করাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। প্রবাসে থেকেও তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। বিশেষ করে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে চান বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসা এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রবাসীদের নৈতিক দায়িত্ব। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারেন।
জান্নাতুল নাজনিন আশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সুরমা লায়ন্সের সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম। তিনি বলেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক একজন গুণী, মানবিক ও সমাজকল্যাণে নিবেদিত মানুষ। তাকে সংবর্ধনা জানাতে পেরে তারা গর্বিত এবং তার মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কাউন্সিলর জাহাঙ্গির হক রাজকে ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।






