সিলেট, ২০ জুলাই: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার খোজারখলা পুকুরে বহু প্রতীক্ষিত উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সোমবার দুপুরে সিসিকের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়, যেখানে আধুনিক উইড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সুরমা এলাকার খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনে অবস্থিত পুকুরটি একসময় স্থানীয়দের নিত্যদিনের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে গিয়ে দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত হয়। পুকুরটির চারপাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল।
কয়েকদিন আগে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে পুকুরটির দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেই আশ্বাসের এক সপ্তাহের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে।
অভিযানস্থল পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা কারো দাবির প্রেক্ষিতে নয়, নিজেদের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে একের পর এক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কয়েকদিন আগে খোজারখলায় এসে পুকুরটির দুরবস্থা দেখে এলাকাবাসীকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছিলাম। আজ সেই কাজ শুরু করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “পুকুরটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় সম্পূর্ণ ভরে গিয়েছিল। নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনাও ঘটছিল। পরিবেশ দূষণের কারণে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। আমরা অবিলম্বে এটি পরিষ্কার করে খনন করব এবং যতটা সম্ভব পুকুরটিকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
পুকুর সংরক্ষণে স্থানীয়দের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আবর্জনা পরিষ্কার ও খনন করে দৃষ্টিনন্দন করলেই হবে না, পুকুরটিকে সংরক্ষণে এলাকাবাসীকে উদ্যোগী হতে হবে। এটি এলাকাবাসীরই সম্পদ, তাই পুকুরে যেন কেউ আবর্জনা না ফেলেন সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”
সিটি কর্পোরেশন পুকুরটিকে ঘিরে একটি নিরাপদ ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসক জানান, পুকুরের চারপাশে হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদে চলাচল ও অবসর সময় কাটাতে পারেন এবং এটি একটি ছোট পরিসরের বিনোদনস্থলে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষাকালে কচুরিপানা এতটাই ঘন হয়ে যেত যে পানির অস্তিত্ব বোঝা যেত না। ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াত এবং মশার উপদ্রব বেড়ে যেত, ফলে বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিলেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ছিল পরিবারগুলোর মধ্যে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই পুকুর একসময় আমাদের এলাকার সৌন্দর্য ছিল। এখন আবার পরিষ্কার হচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে পুরোনো দিন ফিরে আসবে।”
সিসিক প্রশাসন জানায়, নগরীর জলাধার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোশাইদ আহমদ, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।






