চা বাগানে আধ্যাত্মিক জাগরণে গুরুত্ব, মতবিনিময় সভায় বঞ্চনার ইতিহাসের প্রসঙ্গ

চা বাগানে আধ্যাত্মিক জাগরণে গুরুত্ব, মতবিনিময় সভায় বঞ্চনার ইতিহাসের প্রসঙ্গ - Surma Times | Sylhet News

চা বাগানে আধ্যাত্মিক জাগরণে গুরুত্ব, মতবিনিময় সভায় বঞ্চনার ইতিহাসের প্রসঙ্গ - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১৯ জুলাই: সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা বাগানের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রচার ও প্রসার বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রথযাত্রার চতুর্থ দিনে রবিবার বিকেল ৫টায় ইসকন সিলেট মন্দিরের শিবমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা চা বাগানাঞ্চলে নৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণে কৃষ্ণভাবনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভক্তকল্যাণ ও আদিবাসী বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক পরমেশ্বর কৃষ্ণ দাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসকন সিলেট মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুনা দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “চা বাগানের প্রতিটি ঘরে ঘরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা, হরিনাম সংকীর্তন ও কৃষ্ণভক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। কৃষ্ণভাবনাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।”

প্রধান বক্তা ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির দুর্যোগ, ত্রাণ ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী বলেন, চা বাগানাঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ইসকনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইসকন সিলেট মন্দিরের কমান্ডার ও সিলেট জেলা ভক্তকল্যাণ ও আদিবাসী বিভাগের পরিচালক দেবেন্দ্র কেশব দাস ব্রহ্মচারী। এছাড়া ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির অফিস ব্যবস্থাপক সচ্চিদানন্দ শ্যাম সুন্দর দাস সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসকন সিলেট মন্দিরের যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস বলেন, “চা বাগানের নেতৃবৃন্দ যদি কৃষ্ণভাবনামৃতকে গুরুত্ব দেন, তবে সাধারণ মানুষও তা অনুসরণ করবে।” তিনি আরও বলেন, “যেমন পদ্মফুলের মধু ব্যাঙ গ্রহণ করে না, কিন্তু দূর থেকে মৌমাছি এসে তা সংগ্রহ করে; তেমনি কৃষ্ণভক্তিও সবাই গ্রহণ করবে না, সৌভাগ্যবানরাই তা গ্রহণ করবে।”

মতবিনিময় সভায় চা বাগানের নেতৃবৃন্দ নিজেদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন। এ সময় এক বক্তা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “হায়রে ব্রিটিশ! তারা আমাদের এমন এক অবস্থায় রেখে গেছে, যার প্রভাব আমরা আজও বহন করছি।” তিনি দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে উঠতে আধ্যাত্মিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ঐক্যবদ্ধ সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, চা বাগান এলাকায় কৃষ্ণভক্তি, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা এবং হরিনাম সংকীর্তনের প্রসার মানুষের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এ লক্ষ্যে ইসকনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় বক্তব্য দেন কালাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহাগ ছত্রি, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, হিলুয়াছড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি ও সিলেটের ২২টি চা বাগানের ছাত্র ও যুবকল্যাণ সভাপতি দিলীপ রঞ্জন কুর্মী, এবং খাদিম চা বাগানের ড্রাইভার প্রবীর কর্মকার। এছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা বাগানের নেতৃবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, চা বাগানাঞ্চলে নিয়মিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শিক্ষা, হরিনাম সংকীর্তন, শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবার আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত চা বাগানের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিদের সম্মানে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article