ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক ছিল না এবং এটি একটি অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অধীনে জনগণের ওপর একটি ‘ছলচাতুরির গণভোট’ চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে চারটি প্রশ্নের বিপরীতে কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল।
রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পক্ষে জনগণের সমর্থন যাচাই করতে হলে নির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সে পথে না গিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সমঝোতার বাইরে পরিচালিত হয়েছে। তিনি মব জাস্টিসের সমালোচনা করে বলেন, “মব কখনোই জাস্টিস হতে পারে না। এটি আইনের শাসনের দুর্বলতার সুযোগে গড়ে ওঠা একটি অপসংস্কৃতি।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে সরকার আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ উত্থাপন করবে, যেখানে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি ও বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কিছু কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক উদ্দেশ্যে এসব কমিশন গঠন করা হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার কোথায় প্রতিকার পাবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কাঠামোর অভাব ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। তবে রাষ্ট্রের স্থায়ী কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন জরুরি। সংবিধানের প্রস্তাবনা বা মৌলিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গণভোট প্রয়োজন, যা ফেব্রুয়ারির গণভোটে অনুসরণ করা হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিচার বিভাগের একটি অংশের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে বিচারহীনতা ও অবিচার বাড়ছে।
আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের বিজয় এসেছে। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন।






