শাবিপ্রবি ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ তুলায় শিক্ষার্থীকে পেঠাল ছাত্রদল

শাবিপ্রবি ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ তুলায় শিক্ষার্থীকে পেঠাল ছাত্রদল - Surma Times | Sylhet News

171064 - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১৯ জুলাই ২০২৬: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ করাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে।

মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় তাকে সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

অভিযুক্ত দুইজন হলেন ছাত্রদল শাখার যোগাযোগ সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তারেক রহমান।

ভুক্তভোগী খাইরুলের অভিযোগ, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশন করা হলে তিনি হল প্রভোস্টকে ট্যাগ করে ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন। এরপর তারেক রহমান তাকে ডেকে পোস্টটি নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন। একই দিনে রাতে পুনরায় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি আবারও অভিযোগ তোলেন।

খাইরুল জানান, শনিবার রাতে প্রধান ফটকে গেলে অভিযুক্ত দুই নেতা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি বিষয়টি হল প্রভোস্টের ওপর ছেড়ে দিতে বললে, হঠাৎ করে হাসিবুর রহমান তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথা ও মুখে আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, ক্যান্টিন নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় প্রভোস্ট কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গেলে খাইরুল অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসিবুর রহমান আহত হন এবং তার ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article