সিলেট, ১৪ জুলাই: সিলেটের বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় খালাসপ্রাপ্ত চার আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার রাতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদালতের নির্দেশনা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ (পুরাতন কারাগার) কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে। পরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে খালাসপ্রাপ্তদের কারামুক্ত করা হয়।
কারামুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর চার আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক নববিবাহিত তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
ঘটনার রাতেই নির্যাতিত তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জন এবং সন্দেহভাজন আরও দুজনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে প্রায় ছয় বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খালাসপ্রাপ্ত চার আসামির মুক্তির মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।






