সিলেট, ১৪ জুলাই: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন জেলিন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও যোগ দেননি। ৯ জুলাই তার সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপপরিদর্শক অর্জুন চৌধুরী।
পুলিশ জানিয়েছে, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতেও ফেরেননি। তার সন্ধান পেলে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, “এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে কোথাও চলে গেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
নিখোঁজ জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত ৭ এপ্রিল জেলিন ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেন এবং পরে তাকে সিলেটে বদলি করা হয়। ছুটি কাটিয়ে ৭ জুলাই তিনি সিলেটে কর্মস্থলে ফেরেন। ৮ জুলাই সকালে ফোন করলে তার রুমমেটরা জানান, জেলিন ঘুমিয়ে আছে। পরে বেলা ১১টার দিকে আবার ফোন দিলে জানানো হয়, সে বেডে নেই। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে ছেলের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন তার মা। তিনি জানান, একটি চক্র ফোন করে ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ছেলের সঙ্গে কথা না বলানোর কারণে তিনি আর টাকা দেননি। এরপর সিরাজগঞ্জ থানার এসআই পরিচয়ে আরেক ব্যক্তি ফোন করে জেলিনের রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে যাচাই করে জানা যায়, সেটিও প্রতারণার অংশ ছিল।
নিখোঁজের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত জেলিনের সন্ধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।





