সিলেট, ১৩ জুলাই: নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আজ সোমবার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রবিবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন জানান, সোমবার আব্দুল্লাহ আল মামুন সিলেটে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। যদিও রবিবার তার সিলেটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি পৌঁছাননি। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়া গ্রামে। তিনি গোলাম মাওলা চৌধুরীর সন্তান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সিলেটে জেলা প্রশাসক পদে চারজনকে পদায়ন করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করতে পারেননি। সিলেটে যোগ দিতে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ফিরে যেতে হয়। পরে নতুন প্রজ্ঞাপনে তাকে সরিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরও আগে ২১ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সিলেটের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণে রেজা হাসানের যোগদান শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত হন। বিশেষ করে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তার নেওয়া উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি মাজারের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং ঐতিহাসিক দানের ডেগ সিলগালা করার উদ্যোগ নেন। এ পদক্ষেপকে কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এর সমালোচনা করেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের এই বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিলেটে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।






