সিলেট, ১৩ জুলাই: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫)-এর মরদেহ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জকিগঞ্জ পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ধদত্ত গ্রামের আবুল কালাম (কালু মিয়া) এর ছেলে।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি একটি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজন ঢাকায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার পরীক্ষা শেষে তিনি উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে পরিবারকে জানান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না জানান, রাজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেয়। রোববার রাতে ফেসবুকে একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দেখে তারা নিশ্চিত হন যে সেটি রাজনের মরদেহ।
নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। মরদেহ গ্রহণের জন্য পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পেয়ে রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হলে রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রাত ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, মাহবুব সারওয়ার রাজন প্রায় আট মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জানা গেছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রাশেদ পারভেজ ছায়িম। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।






