সিলেট, ১১ জুলাই ২০২৬: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ফারজানা আক্তার শিমু (২৩) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিহত শিমুর বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামে। প্রায় ছয় মাস আগে একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লার মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা কামরুজ্জামান সেলিম আহমদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং ইফতারের সামগ্রী, সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল ও বাড়ি নির্মাণের জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে নিয়মিত কটূক্তি ও চাপ প্রয়োগ করতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করিয়ে ১০ জুলাই বিকেলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগে কিছু সময় বিলম্ব করা হয়। তারা আরও দাবি করেন, শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন বলে জানানো হলেও ঘটনাটি তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে শিমুকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।






