
সিলেট, ১০ জুলাই: হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৩৯০ বোতল ইসকফ সিরাপ ও ৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানাধীন শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে মাদকদ্রব্য নিয়ে হবিগঞ্জ শহরের দিকে যাওয়া হচ্ছে। পরে চুনারুঘাট থানাধীন উবাহাটা এলাকায় শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জগামী পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
চেকপোস্টে প্রাইভেটকারটি থামানোর পর দুজন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের হেফাজতে মাদকদ্রব্য ইসকফ সিরাপ থাকার কথা স্বীকার করে। পরে প্রাইভেটকারের চারটি দরজার সাইড বোর্ডের ভেতর থেকে ৩৯০ বোতল ইসকফ সিরাপ এবং প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম (২৩), পিতা আমির হুসেন, সাং মিরারগাঁও, এবং মো. ফয়সাল মৃধা (২৫), পিতা জিলন মৃধা, সাং দত্তেরগাঁও, উভয়ই শিবপুর, নরসিংদী।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপর এক অভিযানে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন জগদীশপুর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শ্যামলী এন.আর পরিবহনে মাদক বহন করে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার দিকে যাওয়া হচ্ছে। পরে মাধবপুর বাজারস্থ আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় পরিবহনের ভেতরে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। তার দেখানো মতে পরিবহনের সাইড বক্সে রাখা একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. মিজান আলী (২৩), পিতা বাবুল হোসেন, সাং বিশ্বনাথপুর, থানা শিবগঞ্জ, জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
র্যাব জানায়, মিজান আলী হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিল। তার বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ বলেছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।






