সিলেট, ১০ জুলাই — হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারসহ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভা বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সভায় মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলো আগামী সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কমিটির আহ্বায়ক রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে সভায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মাজারের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার একই স্থানে কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মাজারের ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশ-বিদেশে অবস্থানরত হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর ভক্ত-অনুরাগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিটির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে মাজারের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করার কথা জানান তিনি।
সিসিক প্রশাসক আরও জানান, আগামী শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা শুরু হবে। কমিটির সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি জানান, গণনাকারীরা কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না এবং গণনা শেষে সংগৃহীত অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, দরগাহ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মাজারকেন্দ্রিক কার্যক্রমে কীভাবে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী বৃহস্পতিবারের সভায় চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরীফের সরেকওম ফতেহ উল্লাহ আল আমান ও খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না, দরগাহ জামে মসজিদের সেক্রেটারি মুফতি এম এ হাসান এবং জামেয়া কাসিমুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মওলানা মাসুক উদ্দিন।
সিলেটের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মাজারগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই কমিটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী শনিবারের দানবাক্স গণনা এবং পরবর্তী সভার সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে মাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়।






