সিলেটে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব, থাকছেন তিন জাতীয় অতিথি

সিলেটে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব, থাকছেন তিন জাতীয় অতিথি - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব, থাকছেন তিন জাতীয় অতিথি - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৯ জুলাই: বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে আবারও মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে সিলেট। ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি, হরিনাম সংকীর্তন, সুসজ্জিত রথ, ভক্তসমাগম এবং মহাপ্রসাদের সুবাসে উৎসবের নগরীতে পরিণত হবে পুরো শহর। আগামী ১৬ থেকে ২৪ জুলাই আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), যুগলটিলা, সিলেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ের অতিথিদের অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি এবং বিপুল ভক্তসমাগমের কারণে এবারের আয়োজন সিলেটের অন্যতম বৃহৎ রথযাত্রা মহোৎসবে পরিণত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। একই দিন বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার সুসজ্জিত রথ নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

১৭ জুলাই শুক্রবার বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আহমদ। এদিন ভজন-কীর্তন, ইসকন ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে সেমিনার, সনদপত্র বিতরণ, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

মহোৎসবের সমাপনী দিন ২৪ জুলাই শুক্রবার উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়ে নগর প্রদক্ষিণ শেষে মন্দিরে ফিরে আসবে। এরপর সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে নয় দিনের এই মহোৎসব।

মূল কর্মসূচির আগে ১৫ জুলাই বুধবার সকাল ১০টায় হবে গুন্ডিচা মন্দির মার্জন। ১৬ জুলাই দুপুর ১২টায় মহাভোগরাগ ও ভোগারতি দর্শনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং বর্ণাঢ্য রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় গৌরসুন্দরের আরতি এবং ভক্তিবেদান্ত ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমির পরিবেশনায় ভজন সঙ্গীতানুষ্ঠান থাকবে।

১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন মহাভোগরাগ, ভোগারতি, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন, ভজন-কীর্তন, গৌর আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে ১৯ জুলাই হবে নামহট্ট ‘বিনোদন আনন্দধারা’, ২০ জুলাই (হেরা পঞ্চমী) বিতর্ক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈদিক নাটক, ২১ ও ২২ জুলাই বৈদিক নাটক এবং ২৩ জুলাই বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সেবা ও মানবিক মূল্যবোধের মহামিলন। প্রতি বছর এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী সিলেটে আসেন। এবারও কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন, যুগলটিলা, সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ভক্তি, প্রেম ও সেবার উৎসব। রথের দড়ি টানা, হরিনাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণ এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই ভগবানের বিশেষ কৃপা লাভের সুযোগ পান। তিনি সবাইকে মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন ও আশীর্বাদ গ্রহণের আহ্বান জানান।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article