সিলেট, ৯ জুলাই: কক্সবাজারের রামুতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যার ঘটনায় সিলেট থেকে এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের কোতোয়ালী থানাধীন শাহী ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি আকতার কামাল (৪২)। তিনি কক্সবাজারের রামু থানার কালারপাড়া এলাকার হামজা আলীর ছেলে। র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলার রামু থানার মামলা নং-৬৫, তারিখ-২৭/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০-এর মূলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ভিকটিম ছৈয়দ হোসেন রামু থানাধীন কালারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০১৯ সাল থেকে প্রবাসে থাকাকালীন ০২নং বিবাদী, যিনি ভিকটিমের বোনের স্বামী, সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতেন। এই সুবাদে ভিকটিমের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিকটিম ২০২৩ সালে প্রবাস থেকে বাড়িতে ফেরার পর বিষয়টি জানতে পারেন এবং ০২নং বিবাদীকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই ব্যক্তি গোপনে ভিকটিমের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও মনোমালিন্য চলতে থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৫ জুন ভোরে ভিকটিমের মেয়ে তার চাচাকে ফোন করে জানান যে তার পিতা মারা গেছেন। পরে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমপ্রাপ্ত মরদেহ দেখতে পান। ভিকটিমের ভাইয়ের ধারণা, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ার কারণেই ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৯ জানায়, ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।





