
সিলেট, শনিবার (৪ জুলাই): বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার সিলেট সদরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীকে ৩০ কেজি করে চাল এবং প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজারগাঁও জামেয়া মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হলে তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি মাদ্রাসার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগের সড়ক উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে খাল খনন কর্মসূচি জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
একইদিন সকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও তা শতভাগ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাব ও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না। বিদ্যমান স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে জনগণের কার্যকর সেবায় ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে হলেও সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় আয়ের পাঁচ শতাংশ করে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডে এক মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিলেট মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, প্রাকৃতিক খাল উদ্ধার এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন, নতুন জলাধার নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃত্রিম খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।






