সিলেটে আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার হচ্ছে, এআই প্রযুক্তিতে বাজার মনিটরিং: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটে আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার হচ্ছে, এআই প্রযুক্তিতে বাজার মনিটরিং: বাণিজ্যমন্ত্রী - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার হচ্ছে, এআই প্রযুক্তিতে বাজার মনিটরিং: বাণিজ্যমন্ত্রী - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৩ জুলাই: সিলেটকে শাকসবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দেশের বাজার পরিস্থিতি নজরদারি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি অতি সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে। এতে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। ফলে কৃত্রিম সংকট, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

সিলেটের কৃষি খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের শাকসবজি রপ্তানিকারকদের প্রায় অর্ধেকই সিলেটের। তবে প্যাকেজিং ও সার্টিফিকেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া সারাদেশে প্রায় ২ হাজার কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার বড় অংশ সিলেটে স্থাপন করা হবে।

পণ্য মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ পণ্যের দাম বাজারব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে, যা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। এলপিজির মূল্য নির্ধারণের পরও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়লে ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয় করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিটি উপজেলায় বহুতল ভবনে এক ছাতার নিচে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। চা-বাগান এলাকায় পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে ধাপে ধাপে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে।

সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দুটি বিসিক শিল্প এলাকাকে সম্প্রসারণ করে ২০০ একরে উন্নীত করা হবে। শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে আউটডোর সেবা আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কাজ এগোচ্ছে।

মাদক প্রবেশের পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাঁর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে ছাগলের খাদ্য বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার ও র‌্যাভিস ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article